বাগেরহাটের চিতলমারীতে মেয়ের জন্মকে স্মরণীয় করতে ফলজ চারা উপহার

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় কালশিরা গ্রামের মাধব চন্দ্র ব্রহ্ম ও সাথী রানী ব্রহ্ম দম্পতি তাদের মেয়ের জন্মকে স্মরণীয় করে রাখতে গ্রামজুড়ে বাড়িতে বাড়িতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছের চারা উপহার দিয়েছেন।
শুক্রবার থেকে রবিবার (৯ নভেম্বর) পর্যন্ত তিনদিনে কালশিরা গ্রামের দুই শতাধিক পরিবারের মাঝে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, বেল, কদবেল, কালোজাম, সফেদা ও আপেলকুলসহ নানা জাতের ফলের চারা বিতরণ করেন এই দম্পতি।

চলতি বছরের ২০ মে এই দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় সম্প্রীতি ব্রহ্ম মৌলী মেয়ে শিশু। সমাজ ও প্রকৃতির সাথে নিজেদের সন্তান জন্মের আনন্দকে ভাগাভাগি করতেই ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ নিয়েছেন মাধব চন্দ্র ব্রহ্ম ও সাথী রানী ব্রহ্ম দম্পতি। সন্তানের জন্মকে স্মরনীয় করে রাখতে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ এলাকায় সাড়া ফেলেছে।
কালশিরা গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা নারদ রায় বলেন, সন্তান জন্ম উপলক্ষে গ্রামজুড়ে ফলজ গাছ বিতরণের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রংসনীয়। এতে গ্রামের পরিবেশ সমৃদ্ধ হবে, আর শিশুর জন্মের আনন্দ সমাজের সাথে ভাগ হলো। সবাই যদি এমনভাবে ভাবত তাহলে দেশ প্রাকৃতিক পরিবেশ অনেক ভালো থাকত। ২০১৩ এই দম্পতির বিয়ের পর নিজেদের বউভাতে খরচ বাঁচিয়ে এলাকার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ করেন। এই দম্পতি গত পাঁচ বছর ধরে কালশিরা, রুইয়াকুল, শ্রীরামপুর ও বেন্নাবাড়ি গ্রামে কোনো পরিবারের নবজাতক জন্মালে সেখানে গিয়ে তারা গাছের চারা উপহার দিয়ে আসছেন বলেও জানান প্রবীণ বাসিন্দা।

মাধব চন্দ্র ব্রহ্ম ও সাথী রানী ব্রহ্ম জানান, আমাদের মেয়ে সম্প্রীতি ব্রহ্ম মৌলী’র জন্মের পর আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেই যে গ্রামে আমাদের মেয়ে বড় হবে, সেই গ্রামের পরিবেশ যেন আরও সবুজ ও নির্মল হয়। আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের একটু একটু করে টাকা জমিয়েছি। সন্তানের জন্মের পর আত্মীয়-স্বজনদের দেয়া উপহারের টাকাও যুক্ত করেছি। সেই টাকা দিয়েই ফলজ গাছের চারা কিনে গ্রামে বিতরণ করেছি। গাছগুলোও আমাদের মেয়ের সাথে বড় হবে, একদিন ফলে ফলে ভরে উঠবে পুরো গ্রাম। আমরা চাই মেয়ের জন্ম আনন্দ শুধু আমাদের নয়, সমাজ ও প্রকৃতিরও হোক।

7 thoughts on “বাগেরহাটের চিতলমারীতে মেয়ের জন্মকে স্মরণীয় করতে ফলজ চারা উপহার

  1. Pingback: saxenda daily use

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *